বাঁশ ঝাড়ে অসুস্থ রোগীকে ফেলে রেখে চলে যায় স্বজনেরা: ফরিদপুরে পুলিশের উদ্ধার

ফরিদপুর সদর ফরিদপুর সংবাদ

সোহাগ মাতুব্বর, ফরিদপুর প্রতিনিধি:যখন মানুষ মূল্যহীন হয়ে পরে তখন সংসারে সে বোঝা হয়ে যায়, অথচ সে কদিন আগে সংসারের একজন আদরের আস্থার ছিল। কিন্তু নিয়তি মানুষকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়ে দেয় যে হীন মানবিকতা ভুলে মানুষ হয়ে উঠে পাষণ্ড, অমানবিক। ঠিক যুগে যুগে যখন অধর্ম বৃদ্ধি পেয়েছে তখন ঈশ্বর তার দূত পাঠিয়েছেন ধর্ম সংস্থাপনের জন্য।

ঠিক এমনই রক্ত হিম হয়ে যাওয়া ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুর জেলায়। সারা শরীরে বাসা বেঁধেছে অসুস্থতা, শরীরে ঘাঁ হওয়ায় এ্যাম্বুলেন্সে রাতের আধারে রাস্তার পাশে বাঁশ ঝাড়ে ফেলে গেলেন এক রোগীকে তার স্বজনেরা। ৯৯৯ এ জানানোর পর পুলিশ অসুস্থ সেই হতভাগা রোগীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করেন।

গত ২৭ জুলাই ২০২১ দিবাগত রাত ১:৩০ ঘটিকায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে জানতে পারে পুলিশ, ফরিদপুর কোতয়ালী থানাধীন ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চক ফতেপুর গ্রামে রাস্তার পাশে বাঁশঝাড়ের নিচে অ্যাম্বুলেন্সে করে একজন মুমূর্ষু রোগীকে ফেলে রেখে গেছে তার স্বজনেরা।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ এম.এ জলিল কোতয়ালী থানা ফরিদপুরসহ এসআই (নিঃ) ফুরকান খান, এসআই (নিঃ) কৃষ্ণ বিশ্বাস ও সঙ্গীয় ফোর্স উক্ত স্থানে গিয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পুলিশের সহযোগিতায় মুমূর্ষ রোগীকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারি সরবরাহকৃত ঔষুধ প্রদান করেন। এছাড়াও প্রয়োজনীয় ঔষুধপত্র সরকারিভাবে সরবরাহ না থাকায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশক্রমে এবং মহানুভবতায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পরিধেয় বস্ত্র সরবরাহ করা হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অফিসার ইনচার্জ এম.এ জলিল বলেন, খুবই অমানবিক ও দুঃখজনক একটি ঘটনা। জরুরি সেবার মাধ্যমে জানতে পেরে আমরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। পুলিশ সুপার নির্দেশেক্রমে পুলিশ তহবিল থেকে ঔষধ ও বিস্তারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রোগীর স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *