চাঞ্চল্যকর প্রবাসী হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: ফাঁসির দাবি

ফরিদপুর সংবাদ ভাঙ্গা

ঢাকা অফিস: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর ইতালি প্রবাসী মাসুদ হত্যাকাণ্ডে এখনো মূল আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবারের চরম অসন্তোষ। আজ রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় হল রুমে সংবাদ সম্মেলন করে খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।

এই বিষয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার ইতালি প্রবাসী মাসুদের মা হালিমা বেগম  বলেন, আমার পুত্র ইতালী প্রবাসী সমাজ সেবক, দানশীল ব্যাক্তিত্ব মো মাসুদ রানা (৪৫) কে গত ১৩/০৪/২০২১ তারিখ মঙ্গলবার সন্ধ্যা অনুমানিক ৭.৩০ (সাড়ে সাতটা) সময়ে নওপাড়া বাসষ্টান্ডে নান্নুর চায়ের দোকানে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে। আমাদের গজারিয়া গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী, ভুমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বাচ্চু নেতৃত্বে তার ২ পুত্র রিজু, মিজু সহ তার জামাতা জুয়েল, নিশান, পিন্স, সহিদ, কিবরিয়া, নান্নু, তুরফান, এরফান, তুরাপ আলী, বুরহান সেখ, সবুজ, খাজা, বাবু সহ তার সহযোগিরা আমার পুত্রকে খুন করে। এঘটনায় পরদিন ভাঙ্গা থানায় মামলা করি। যাহার নং- ১৬, তারিখ-১৫/৪/২০২১। কিন্ত কয়েকজন আসামী আটক হলেও উল্লেখ্য যোগ্য মুল আসামীদেরকে এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে নাই। তার লোকজন ও আত্মিয়-স্বজন আমাদেরকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে তোর ছেলে আছাদকেও গুম করে ফেলবো। আসামীদের গ্রেফতার করতে না পারলে আমার পুত্রের আত্মা শান্তি পাবে না।

তিনি আরো বলেন, এই হত্যা ঘটনার মুল কারন হচ্ছে ঐ দিন মঙ্গলবার দুপুরে প্রিন্স বেপোরোয়া গতিতে ধুলা উড়িয়ে মটর সাইকেল চালানোর নিশেধ করেছিল মাসুদ। এতে প্রিন্স ক্ষিপ্ত হয়ে সে তার মাদবর বাচ্ছুমিয়ার কাছে বিচার দিলেছিল। ঐ আক্রোশের সুত্র ধরে প্রধান আসামী এমদাদুল হক বা”চুমিয়া নেতৃত্বে তার ২ পুত্র, পিন্স ও তার জামাতা মিলে ৩৫ জন সহ আরো অজ্ঞাত ৫/৬ জন আসামীরা প্রকাশ্য মাসুদ রানাকে নান্নুর চায়ের দোকানে কুপিয়ে হত্যা করে। পরদিন বুধবার ময়না তদন্তের পর পারিবারিক কবর¯’ানে দাফন করা হয়েছে। এঘটনায় আমি নিহতের মা হালিমা বেগম বাদি হয়ে ৩৫ জন সহ আরো অজ্ঞাত ৫/৬ কে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করি।

হালিমা বেগম আরো বলেন, আমার পুত্র মাসুদ রানার স্ত্রী ও ৩ সন্তান বর্তমানে ইটালী বসবাস করছে। আমার নাতিনরা তার বাবার হত্যাকারীদের আটক করে ফাঁসির দাবী করছে। আমার পুত্রবধু আফরোজা রোজী তিনিও আমাকে জানিয়েছেন, সে তার স্বামীকে হারিয়ে এখন বিধবা হয়েছে। তিনি তার স্বামীর হত্যাকারী বাচ্চু রিজু, মিজু সহ তার জামাতা জুয়েল, পিন্স, সহিদ, কিবরিয়া, নান্নু, তুরফান, সবুজ, খাজা, বাবু সহ তার সহযোগিরা সহ সকল আসামীদের আটক করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী করছে। আসামীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারায় পরিবার পরিজন সহ এলাকাবাসি অসন্তস প্রকাশ করেছেন।

নিহত ইতালি প্রবাসী মাসুদের ছোট  আছাদ দাবি করেন, বাচ্চুমিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ভুমিদস্যু সহ তার ছেলেরা মাদক ব্যবসা সহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। তাদের মাসুদরানা অপকর্ম সহ মাদকের বিরোধিতা করায় আমার ভাইকে তাহারা প্রকাশ্য হত্যা পরিকল্পনা করে। এরপর তাদের পরিকল্পনা অনুসারে আমার ভাইকে হত্যা করে। হত্যার পরে পুলিশ বাচ্চুর বাড়ি তল্লাশি করে গাজা, ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম এবং ডাল, সুরকি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। আমি হত্যাকারীদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী করছি। আমার ভাই মাসুদরানা এলাকার মধ্যে একজন দানবির , সৎ ও লোক ছিলেন, গ্রামবাসীকে অনেক দান করতো।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এই মামলাটি অদৃশ্য কারনে আমাকে না জানিয়ে আসামীরা লোকজন দিয়ে তদবির করে ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুর ডিবিতে নিয়ে গেছে। আসামীরা শক্তিশালী হওয়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গ্রেফতার এড়িয়ে যাচ্ছে এবং ধরা ছোয়ার বাহিরে রয়ে  যাচ্ছে। আসামীরা যাতে আটক হয় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,  ও পুলিশ মহাপরিদর্শকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যাহাতে পুলিশ সহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত হত্যাকারীদের আটক করে আইনের আওতায় আনে। আসামীদের আটক হওয়ার জন্যই আমরা এই সাংবাদিক সম্মেলন করার মুল উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *