প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে ৬ টুকরা করেন আরিফা

অপরাধ বাংলাদেশ

গাজীপুর প্রতিনিধি: সুমন মোল্লার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়ার আগেই তনয় সরকারের প্রেমে পড়েছিল আরিফা বেগম। দীর্ঘদিন ধরে চলে তাদের প্রেম। সুমনের সঙ্গে বিয়ের পরও তাদের প্রেমে ভাটা পড়েনি। বিষয়টি জানতে পেরে সুমন মোল্লাহ স্ত্রী আরিফা ও তনয়কে শাসনও করেছেন কয়েকবার। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে আরিফা। প্রেমিক-প্রেমিকা মিলে সুমনকে হত্যার পর ছয় টুকরা করে লাশ গুম করে ফেলে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা ও তনয় এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানায় গাজীপুর মহানগর পুলিশ।

বছর দেড়েক আগে বাগেরহাটের চিতলমারী থানার গোলা বরননী এলাকার সুমন মোল্লাহর সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থানার নারায়ণপুর এলাকার আশরাফ আলীর মেয়ে আরিফা বেগমের। বিয়ের আগে থেকেই আরিফার প্রেম ছিল ফরিদপুরের মধুখালী থানার নরকোনা এলাকার তনয় সরকারের সঙ্গে।

রোববার সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে উপপুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জাকির হাসান বলেন, গত মাসের ২১ তারিখ মহানগরের কাশিমপুর সারদাগঞ্জ হাজী মার্কেট পুকুরপাড় এলাকায় জামাল উদ্দিনের সেপটিক ট্যাঙ্কে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির হাত-পা-মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ওই এলাকায় ভাড়া থেকে আরিফা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করলেও সুমন মোল্লাহ বেকার ছিলেন। পরে পুলিশ অজ্ঞাত ওই লাশ সুমন মোল্লাহর বলে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্ত্রী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই পুকুরপাড়ের ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি ও করাত উদ্ধার করা হয়। এরপর একই এলাকার তেঁতুইবাড়ী মোজার মিলসংলগ্ন ময়লার ভাগাড় থেকে নিহতের খণ্ডিত পা ও মাথাসহ দেহের পাঁচটি অংশ গলিত অবস্থায় উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় আরিফা দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয় সুমনকে। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে আরিফা তনয়কে ডেকে আনে। এরপর রাত ১২টায় বালিশচাপা দিয়ে সুমনকে হত্যা করে ঘরে রেখে দেয়। পরের দিন করাত দিয়ে সুমনের মাথা, দুই হাত ও দুই পা বিচ্ছিন্ন করে এবং চাপাতি দিয়ে পেট কেটে ফেলে। হাত, পা ও মাথাবিহীন শরীর আরিফার ব্যবহৃত কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে পার্শ্ববর্তী জামাল উদ্দিনের বিল্ডিংয়ের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয় এবং দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা পাঁচটি অংশ পলিথিন মুড়িয়ে চক্রবর্তী তেঁতুইবাড়ি মোজার মিলসংলগ্ন ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেয়।

শনিবার রাতে আরিফা ও তনয়কে গ্রেপ্তারের পর তারা পুলিশকে এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা জাকির হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *