করোনার ঢেউয়ে সাঁতার জানা মাঝির প্রয়োজন

উচ্চ শিক্ষা শিক্ষা

কবি সুকুমার রায়ের “জীবনের হিসাব” কবিতায় শখের বশে নৌকায় উঠে বিদ‍্যা বোঝাই বাবু মশাই মাঝিকে জগতের তাবৎ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন। সূর্য কেন ওঠে? চাঁদ কেন বাড়ে-কমে? জোয়ার কেন আসে? নদীর ধারা কেমনে আসে পাহাড় হতে? কেন সাগরের পানি লোনা? কেন নীল দেখা যায় আকাশের চূড়া? সূর্য চাঁদে গ্রহণ লাগে কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। বেচারা মাঝি কি আর এতোসব জ্ঞানগর্ভ কথার উত্তর দিতে পারে। যদিও জীবন সাগরের এসবের যথার্থ বাস্তব জ্ঞানসমৃদ্ধ মাঝির জীবন-জীবিকা ধ‍্যান-জ্ঞান এই প্রশ্নের বিষয়বস্তুকে নিয়েই আবর্তিত হয়ে থাকে। কিন্তু সে গুছিয়ে বলতে পারে না। তখন বাবু মশাই ভর্তসনার স্বরে বৃদ্ধ মাঝিকে বলেন, দেখছি এখন জীবনটা তোর বারো আনাই বৃথা। এমন সময় নদীতে ঝড় উঠে। ঢেউ তরঙ্গের দোলায় নৌকার ডুবন্ত অবস্থায় তখন মাঝি বাবুকে জিজ্ঞেস করেন, সাঁতার জানো? আকাশ-পাতাল, চাঁদ-সূর্য, জোয়ার-ভাটা ও পাহাড়-সাগরের কিতাবি জ্ঞান বোঝাই বাবু না-সূচক মাথা নেড়ে জানান তার সাঁতারই জানা নাই। তখন মাঝি বলেন, বাঁচলে শেষে আমার কথা হিসেব করো পিছে, তোমার দেখি জীবনখানা ষোল আনাই মিছে।

সারাবিশ্বে করোনা ঝড়ের মহামারির সময়ে জ্ঞানগর্ভ বিদ‍্যার চেয়ে বিপদসঙ্কুল অবস্থা উত্তোরণ ও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ হতে বাঁচার জন্য বৃদ্ধ মাঝির মতো সাঁতার জানাই বেশি প্রয়োজন। কিছুদিন আগেও অনলাইন প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন কিছু আত্মভোলা ও অন্যকে নিয়ে সমালোচনায় ব‍্যস্ত জ্ঞানী বাবুদের কাছে বারো আনাই মিছে মনে হয়েছিল। কিন্তু বতর্মান সংকটে বিপদ সাগরের সাঁতার জানা মাঝির মতো অনলাইন প্লাটফর্ম কাজের কাজী হয়ে উঠেছে। আর এগুলোর ভর্তসনাকারী জ্ঞানী বাবুদের অবস্থা ষোল আনাই মিছে। যদিও এখন তারা কাবু হয়ে আছেন এবং এগুলো জানা মাঝির অনুগামী হচ্ছেন। বলা বাহুল্য ফরিদপুরে অবস্থিত টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ সাঁতার জানা মাঝির মতো তার আরোহী শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে জ্ঞানের সাগর পাড়ি দিচ্ছে সফলভাবে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে। এসংকটে শিক্ষার্থীদের জীবন বিদ‍্যা বোঝাই জ্ঞানীর মতো যাতে ষোল আনাই মিছে না হয় আর তারা মহামারির মধ্যেও প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিয়ে জীবনযুদ্ধে জয়ী হতে পারে তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝি-মাল্লা শিক্ষকগণ এলক্ষে‍ কাজ করে যাচ্ছেন রাতদিন নিরালসভাবে। সরকারের স্বাস্থবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী এখন ভর্তি, ক্লাস, এসাইনমেন্ট, কাউন্সিলিং এবং পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে খুবই সীমিত পরিসরে অফিস খোলা থাকে। তাই প্রযুক্তিগত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আপনার নিজের, সন্তানের বা পরিজনের জন্য টাইমস ইউনিভার্সিটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। আমাদের স্বাস্থবিষয়ক বিধি মেনে ক‍্যাম্পাস পরিদর্শনের জন্য সাদরে আমন্ত্রণ রইল। বিভিন্ন প্রোগ্রামে করোনা কালীন বিশেষ ছাড়ে ভর্তি চলছে। কর্মজীবিদের জন‍্য ছুটির দিনে স‍ান্ধ‍্যকালীন ক্লাস ও পরীক্ষা। পাঠবিরতি গ্রহণযোগ্য। বিস্তারিত জানতে ০১৭৭১-৭৬৬৫৯১ এবং ০১৬৮৫-৮০০৮৯০ নম্বরে কল করুন।

লেখক- ড. মুহম্মদ কামরুজ্জামান
ডীন, ব‍্যবসায় প্রশাসন অনুষদ
টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ফরিদপুর

উপদেষ্টা, FCC Bank Limited, ফরিদপুর;
শিক্ষা উপদেষ্টা, ক‍্যাব, ফরিদপুর জেলা শাখা
ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব, ফরিদপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *